• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

৬ মাস চিকিৎসা শেষে ফাঁদে আটকা পড়া বাঘিনী সুন্দরবনে ফিরছে আজ

নিজেস্ব প্রতিবেদন
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আহত বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে আজ রোববার (১২ জুলাই)। শনিবার রাতে বনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়। তার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য বনের মধ্যে ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল এ প্রাণীটি।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, গেল ছয় মাস সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে আমরা বাঘটির দেখভাল করেছি। এখন শতভাগ সুস্থ।

তিনি বলেন, রাতের বেলায় বাঘটিকে পরিবহণ করার কথা আছে। রোববার সকালে যত দ্রুত সম্ভব তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। অবমুক্ত করার পর তার গতিবিধি বা তার চলন বিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা সুন্দরবনে ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। প্রতি ১০ দিন অথবা ১৫ দিন পরপর সেই ক্যামেরা থেকে এসডি কার্ড সংগ্রহ করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করব।
গাজীপুর সাফারী পার্ক ভেটেরেনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইম বলেন, ৪ জানুয়ারি উদ্ধার হওয়ার পর আমাদের ভেটেরেনারি রিনা টিমের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এখন বাঘটি পরিপূর্ণ সুস্থ। আমাদের মেডিকেল বোর্ড দ্বারা এটা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাণীটি ছাড়ার উপযোগী কী না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসেছিলেন তারা সম্মতি দিয়েছেন। প্রাণীটি পা এবং শারীরিক অবস্থা যে অবস্থা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার জন্য সুস্থ। এ সনদ পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ১২ জুলাই এটাকে তার নিজের ভূমিতে অবমুক্ত করব।

তিনি আরও বলেন, বাঘটি একটি ফাঁদের মধ্যে আটক ছিল। তার বাম পা মূলত ফাঁদের মধ্যে আটক ছিল। তার চামড়া, মাসল, মাংসপেশি, নার্ভ, ব্লাড ভেসেল এমনকি ট্যান্ডনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন থেকে উদ্ধার করে বাঘটিকে চিকিৎসা দিলাম। তার পেটের মধ্যে কানের গোড়ায় ঘা ছিল। সেগুলো ড্রেসিং ও চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ঘা গুলো শুকাতে দীর্ঘ তিন মাসের মতো সময় লেগেছে। এপ্রিলের প্রথমদিকে ঘা গুলো শুকিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ওকে লাইফ হান্টিয়ের ট্রেনিং দেওয়া হয়। তাকে সকাল ও বিকেল ওষুধ দেওয়া হতো। যার কারণে মাংস পিস পিস করে ওষুধ সেবন করানো হয়েছে। শূকর ও ছাগল দিয়ে লাইফ হান্টিং করানো হয়েছে। লাইফ হান্টিংয়ে সফল হওয়ায় তাকে সুন্দরবনে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঘটি এত হিংস্র ছিল যে কোনো মানুষ তার সামনে গেলে ধরার জন্য তেড়ে আসে। তাকে বনের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযোগী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category