• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

ভালুকার কাদিগড় বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরীর যোগসাজশে অর্ধশতাধিক গজারি গাছ কাটার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি -
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভালুকার কাদিগড় বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরীর যোগসাজশে অর্ধশতাধিক গজারি গাছ কাটার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহ বন বিভাগের কাদিগড় বিটের আওতাধীন পাড়াগাঁও মৌজার সিএস ৩৪৯ দাগভুক্ত গেজেটভুক্ত বনভূমি থেকে অর্ধশতাধিক গজারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পার্কের অভ্যন্তরে থাকা বেশ কয়েকটি বড় গাছ কাটার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কসিম উদ্দিন মড়ল, উজ্জ্বল মড়লসহ কয়েকজন ব্যক্তি বনভূমির গজারি গাছ কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনায় কাদিগড় বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরী মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বনভূমি থেকে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বনভূমির গাছ কাটার সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করতে ছোটখাটো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

অন্য এক বাসিন্দা বলেন, বন ও বনভূমি রক্ষায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় বনাঞ্চলের আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাদিগড় বিট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বন প্রহরী মিজানুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এদিকে স্থানীয়রা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি বন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে বনভূমির বন ধ্বংসের এমন ঘটনা আর না ঘটে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category