ঢাকা ০১:৫১ এএম, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার সাকিবের রাজনীতি ফেরার ইঙ্গিত,

বিশেষ প্রতিনিধি -
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:০০ এএম, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩০ শেয়ার হয়েছে
সংবাদ কথা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হলে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন মাধ‍্যমে।

সম্প্রতি ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘এখন পরিবারকে সময় দেয়া আর কী। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি, বলতে পারেন সেটা ইতিবাচক এক দিক থেকে। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করব রাজনীতিটা করার।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে।

Screenshot 20260407 114343 CapCut

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাকিব বলেন, ‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষতে ভালো কিছুই হবে।

নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা নতুন সরকার এসেছে, যেভাবেই আসুক। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহুর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট, তবে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি অন্যান্য দেশের থেকে, প্রথম সারিতে আছে সংকটের দিক থেকে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা। যারা রাজনীতিবিদ আছে তাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না। আর গণতান্ত্রিক ধারাতেও এটা হয় না। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে সব। আমি তো আশাবাদী, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। এখন যারা শুরু করবে তারা অনেকদূর সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এখন কে শুরু করবে দেখার বিষয়।

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবনই অমূল্য। আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি। আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়।

দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব যদি আমি সমাধান করতে পারি…না না হলে হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ওই বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ক্রিকেটার সাকিবের রাজনীতি ফেরার ইঙ্গিত,

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:০০ এএম, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হলে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন মাধ‍্যমে।

সম্প্রতি ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘এখন পরিবারকে সময় দেয়া আর কী। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি, বলতে পারেন সেটা ইতিবাচক এক দিক থেকে। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করব রাজনীতিটা করার।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে।

Screenshot 20260407 114343 CapCut

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাকিব বলেন, ‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষতে ভালো কিছুই হবে।

নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা নতুন সরকার এসেছে, যেভাবেই আসুক। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহুর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট, তবে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি অন্যান্য দেশের থেকে, প্রথম সারিতে আছে সংকটের দিক থেকে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা। যারা রাজনীতিবিদ আছে তাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না। আর গণতান্ত্রিক ধারাতেও এটা হয় না। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে সব। আমি তো আশাবাদী, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। এখন যারা শুরু করবে তারা অনেকদূর সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এখন কে শুরু করবে দেখার বিষয়।

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবনই অমূল্য। আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি। আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়।

দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব যদি আমি সমাধান করতে পারি…না না হলে হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ওই বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।