অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন অধিদপ্তরের অর্জন: আইন সংস্কার, বনভুমি উদ্ধার, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা জোরদার।
- আপডেট সময় : ০৪:০০:০০ এএম, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩০৮ শেয়ার হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন অধিদপ্তরের অর্জন: আইন সংস্কার, বনভুমি উদ্ধার, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা জোরদার।
ঢাকা | বিশেষ প্রতিবেদন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন সংস্কার, নীতিমালা প্রণয়ন, বন ভুমি পুনরুদ্ধার এবং দখলদার উচ্ছেদসহ ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বন অধিদপ্তর। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এসব উদ্যোগকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন ও নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোরদারে নতুন করে প্রণয়ন ও সংশোধন করা হয়েছে একাধিক আইন ও নীতিমালা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
জাতীয় বননীতি হালনাগাদ করে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে। বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে অবৈধ বৃক্ষ কর্তন ও দখলদারিত্ব রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে বাঘসহ ২৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীকে জামিন অযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। মোট ১,৫৭৪টি বন্যপ্রাণীকে সুরক্ষা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার রোধে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও কাস্টমসকে জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যা মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার সমুদ্রবিলাস মৌজার ৩৪১৫.২০৫৫ একর এবং বিজয় একাত্তর মৌজার ১৯২০.৩৮০০ একর সহ সর্বমোট ৫৩৩৫.৫৮৫৫ একর বনভূমিকে বন আইন, ১৯২৭ এর ২০ ধারায় সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্যে বন আইন ১৯২৭ এর ৪ ধারায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক এবং উদ্ভিদ উদ্যানসহ সকল রক্ষিত এলাকায় সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার এবং সকল ধরণের বনভোজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুরে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। দায়ের করা ৮৮টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সকল মামলায় ৩৮৭জন আসামীকে খালাস প্রদান করা হয়।
বৃক্ষপ্রেমী, গবেষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল শ্রেণীর দর্শণার্থীদের বিবেচনায় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান এর প্রবেশ ফি যৌক্তিকভাবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
বন, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে প্রাণীকূলের রেডলিস্ট হালনাগাদকরণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মেছোবিড়াল সংরক্ষণ কাজ জোরদার করার লক্ষ্যে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ব মেছোবিড়াল দিবস উদযাপন করা হয়েছে এবং মেছোবিড়াল সংরক্ষণ কার্যক্রমে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে ব্যপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০২৬ জারি করে অবক্ষয়িত বন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সামাজিক বনায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন পুনরুদ্ধার ও দখলদার উচ্ছেদ,বনভূমি উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ে।
তথ্য মোতাবেক জানা যায় আগস্ট ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৫,৭০০ একর জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হয়েছে।
কক্সবাজারে লোক প্রশাসন একাডেমি, বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার ও বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বনভূমির বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে। বনকে বনের মতোন সাজানোর প্রক্রিয়া করা হয়েছে।
সোনাদিয়া দ্বীপের প্রায় ৯,৪৬৬ একর বনভূমির বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।শালবন ও পাহাড়ি বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা মধুপুর শালবনে ৪৫,৫৬৫ একর বনভূমির সীমানা চিহ্নিতকরণ কাজ চলমান আছে জানা যায়।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা” প্রকল্পের আওতায় ১১১১ একর এলাকায় বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে চুনতি অভয়ারণ্যে অবৈধ আকাশমনি অপসারণ করে দেশীয় প্রজাতির মাধ্যমে বন পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে।
নতুন ঢাকা আবাস্থল পূর্বাচলের ১৪৪ একর শালবনকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। যা মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং ক্যাপটিভ হাতি শনাক্তে মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে।
জানা যায় জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩৭ জনকে ২ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে তথ্যদাতাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সাইটিস কনভেনশন বাস্তবায়নে ডিজিটাল পারমিট সিস্টেম চালু হয়েছে।
শহরে সবুজায়ন ও বায়ু দূষণ কমাতে উদ্যোগ
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সড়ক বনায়ন ও উন্মুক্ত স্থানে বনায়ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বায়ু দূষণ কমাতে “জিরো সয়েল” কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।
বন বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার বন অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে পৃথক বন্যপ্রাণী উইং গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত ৪৫৪ জন ফরেস্টারকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অল্প সময়ে বন অধিদপ্তরের এসব উদ্যোগ বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ ও বনের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বলে অনেক সমস্যা সহজেই নিরসন হয়েছে বলে মনে করেন।




















