নিজস্ব প্রতিবেদন - সংবাদ কথা
দুঃসময়ে পাশে ছিল বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনী: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:২৮ পিএম, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৩ শেয়ার হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে ঘিরে একাধিক ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং সাংবিধানিক সংকট তৈরি করার নানা চেষ্টা হয়েছিল। তবে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর তার জন্য সহজ ছিল না। তিনি বলেন, এ সময় তাকে আলোচনার বাইরে রেখে নানা ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি অসাংবিধানিকভাবে তাকে অপসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, কিছু রাজনৈতিক নেতার চাপের মুখে তার অপসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা চলে। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত না হলে তাকে অপসারণ করা সম্ভব নয়। পরে এ ইস্যুতে মতভেদ তৈরি হয় এবং দুটি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই সময় কারা পাশে ছিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, কঠিন মুহূর্তে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তার পূর্বধারণা থাকলেও পরে তিনি তাকে আন্তরিক হিসেবে পেয়েছেন। তার ভাষায়, ওই সংকটকালে বিএনপির সমর্থন ছিল পূর্ণাঙ্গ।
রাষ্ট্রপতির দাবি, রাজনৈতিক পর্যায়ে অপসারণের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার স্থলাভিষিক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি, যদিও সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি।
তিন বাহিনীর সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে মনোবল জুগিয়েছেন এবং সংকটময় মুহূর্তে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিদেশ সফর ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার ভাষায়, তাকে জনসমক্ষে কম দৃশ্যমান রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি বিদেশে বাংলাদেশি হাইকমিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার প্রেস উইং প্রত্যাহার করা হয় এবং জাতীয় দিবসগুলোতে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে তার ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়।

























