নিজস্ব প্রতিবেদন - সংবাদ কথা
মাঠে খেলতে আসায় কিশোর–তরুণদের উঠবস করানো নিয়ে বিতর্ক, সমালোচনার মুখে ডাকসু সদস্য
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:৫১ এএম, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৫ শেয়ার হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রায় ৩০ জন কিশোর ও তরুণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওতে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, মাঠে খেলতে আসা কিশোরদের শাসনের নামে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবিদুর রহমান (মিশু) ভিডিওটি শেয়ার করে মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও একজন ছাত্রনেতা নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ।
এদিকে বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সর্বমিত্র চাকমা। তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় মাঠে অনুশীলনে আসা শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বারবার নিষেধ করার পরও বাইরের লোকজন দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে এবং কখনো কখনো স্টাফদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দেয়াল সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও বাজেটের অজুহাতে তা বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি ওই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের লোকজন নিয়মিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংবাদ কথা





















