লোককবি ফকির মহব্বত শাহ স্মরণে
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:২০ এএম, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৮ শেয়ার হয়েছে
লোক গবেষক, কবি ও গীতিকার ফকির মহব্বত শাহ যিনি মনু মহব্বত নামে কবিতা লিখতেন বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল তিনি চিরকালের ঠিকানায় পাড়ি জমান। গতকাল ছিল তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী এক নীরব স্মরণ, এক অপূর্ণ দায়ের প্রতিধ্বনি।
জনতা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করলেও তাঁর প্রকৃত পরিচয় ছিল এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক,লোকসংস্কৃতি, মরমীবাদ ও আত্মিক অন্বেষণে নিমগ্ন। লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকঐতিহ্যকে তিনি নিজের সাধনায় ধারণ করেছিলেন গভীর মোরাকাবার মতো একাগ্রতায়।

আমার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় আরামবাগে জাভেদ ভাইয়ের ফ্রি প্যালেসে। পরবর্তীতে প্রিয় অগ্রজ কবি বদরুল হায়দার ও চঞ্চল আক্তারের মাধ্যমে সে পরিচয় হয়ে ওঠে আরও গভীর। আমি তাঁকে “জেঠা” বলে ডাকতাম—একটি সম্বোধন, যা পরে আমার বন্ধুদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে স্নেহের সূত্রে।
University of Chittagong-এর এই মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি গবেষণায়। তিনি রেখে গেছেন প্রান্তিক মানুষের জীবন, বেদনা, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য দলিল। অথচ সময় তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন দিতে পারেনি এ এক বেদনাদায়ক সত্য।

অবসর-পরবর্তী জীবনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব, অবহেলা ও নিঃশব্দ অভিমানে তিনি চলে যান মহাকালের পথে।
‘জীবন এমনই নির্মম” আমাদের বেঁচে থাকার চেয়ে লজ্জা আর কী হতে পারে যখন আমরা আমাদের প্রকৃত গুণীদের অবহেলায় হারিয়ে ফেলি।
ফকির মহব্বত শাহ নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি রয়ে গেছে—আমাদের জন্য, আমাদের চেতনার জন্য।
সেই সৃষ্টির দিকে ফিরে তাকাতে পারলে, হয়তো আমরা নিজেদের কিছুটা উদ্ধার করতে পারব।
আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
লোককবি ফকির মহব্বত শাহ স্মরণে
কবি জামিল জাহাঙ্গীর





















