ঢাকা ০৫:৪২ এএম, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদন - সংবাদ কথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২৭ এএম, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ শেয়ার হয়েছে
সংবাদ কথা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি এখনই পদ ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয়ের পাশের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার যাতে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি বলেও জানান।

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং পরবর্তী দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। প্রশাসনে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হোক, সেটি তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষে হঠাৎ পদত্যাগ করলে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাই আগেভাগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। পরে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে তিনি প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান। তবে তিনি মূলত শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী।

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো একক ব্যক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ধারাবাহিকতাই মুখ্য।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই; সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিজস্ব প্রতিবেদন - সংবাদ কথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ১০:২৯:২৭ এএম, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি এখনই পদ ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয়ের পাশের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার যাতে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি বলেও জানান।

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং পরবর্তী দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। প্রশাসনে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হোক, সেটি তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষে হঠাৎ পদত্যাগ করলে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাই আগেভাগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। পরে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে তিনি প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান। তবে তিনি মূলত শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী।

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো একক ব্যক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ধারাবাহিকতাই মুখ্য।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই; সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।