ঢাকা ০৪:১১ এএম, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই বছর মানবিক পড়ে পরীক্ষার ২ দিন আগে জানলেন তিনি ‘বাণিজ্য’র ছাত্রী আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে: শিমুল বিশ্বাস এমপি আজ ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস হার্ডার সুন্দরবনে অভিযান,কোস্ট গার্ডের জালে দয়াল বাহিনীর সদস্য বন বিভাগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ভুয়া আইডি বিরুদ্ধে আইনি ব‍্যবস্থা উত্তরায় ১ কোটি টাকার কোকেনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ আন্দামান সাগরে নৌকাডুবে ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ, আছেন বাংলাদেশি নাগরিকও আজ পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কুমিল্লায় ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৭

দুই বছর মানবিক পড়ে পরীক্ষার ২ দিন আগে জানলেন তিনি ‘বাণিজ্য’র ছাত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০৭ পিএম, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৯ শেয়ার হয়েছে
সংবাদ কথা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে চরম বিপাকে পড়েছেন মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি নামের এক পরীক্ষার্থী। গত দুই বছর ধরে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করে পরীক্ষার ঠিক আগের দিন তিনি জানতে পারলেন, দাপ্তরিকভাবে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে দিলে বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সন্ধি উপজেলার উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা তার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধি জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। এরপর ওই বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যান। দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০৭ নম্বর পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি প্রথম স্থানও অধিকার করেছিলেন। কিন্তু রোববার প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখেন, সেখানে তার বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বা বাণিজ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় তার মানবিকের বইগুলো ছড়ানো। চোখেমুখে হতাশা নিয়ে সন্ধি বলেন, ‘এক দিন পর (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা। এতদিন মানবিকে পড়েছি, প্রথম হয়েছি। অথচ প্রবেশপত্র দিল বাণিজ্যের। স্যারকে বললে তিনি বলেন আমি নাকি স্কুলে যাই না। এখন আমার পক্ষে বাণিজ্যের বই পড়া সম্ভব না।’
সন্ধি আরও জানান, নবম শ্রেণির শুরুর দিকে মাসখানেক তিনি বাণিজ্য বিভাগে ছিলেন। পরে পারিবারিক কারণে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিকে চলে যান। শিক্ষকদের তা জানালেও তারা নথিপত্রে তা সংশোধন করেননি বলে তার অভিযোগ।
এ বিষয়ে উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘যে বিভাগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেই বিভাগেরই কার্ড এসেছে। শিক্ষার্থী যদি কমার্সে ভর্তি হয়ে মানবিকে পড়াশোনা করে, তার দায় আমার নয়। কাল বোর্ডে যাব, দেখা যাক কী হয়। তবে তিনি ওই শিক্ষার্থীর রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি।
অন্যদিকে, জোতমোড়া নিম্ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মেয়েটি শুরুতে কমার্সে ক্লাস করেছে এবং রেজিস্ট্রেশনে স্বাক্ষরও করেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও বোর্ডে কথা বলা হচ্ছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিকেল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে কিছুই জানাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তার পরিবার জানিয়েছে, বাবা-মা হারানো এতিম এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র না পেলে কালকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দুই বছর মানবিক পড়ে পরীক্ষার ২ দিন আগে জানলেন তিনি ‘বাণিজ্য’র ছাত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০৭ পিএম, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে চরম বিপাকে পড়েছেন মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি নামের এক পরীক্ষার্থী। গত দুই বছর ধরে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করে পরীক্ষার ঠিক আগের দিন তিনি জানতে পারলেন, দাপ্তরিকভাবে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে দিলে বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সন্ধি উপজেলার উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা তার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধি জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। এরপর ওই বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যান। দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০৭ নম্বর পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি প্রথম স্থানও অধিকার করেছিলেন। কিন্তু রোববার প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখেন, সেখানে তার বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বা বাণিজ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় তার মানবিকের বইগুলো ছড়ানো। চোখেমুখে হতাশা নিয়ে সন্ধি বলেন, ‘এক দিন পর (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা। এতদিন মানবিকে পড়েছি, প্রথম হয়েছি। অথচ প্রবেশপত্র দিল বাণিজ্যের। স্যারকে বললে তিনি বলেন আমি নাকি স্কুলে যাই না। এখন আমার পক্ষে বাণিজ্যের বই পড়া সম্ভব না।’
সন্ধি আরও জানান, নবম শ্রেণির শুরুর দিকে মাসখানেক তিনি বাণিজ্য বিভাগে ছিলেন। পরে পারিবারিক কারণে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিকে চলে যান। শিক্ষকদের তা জানালেও তারা নথিপত্রে তা সংশোধন করেননি বলে তার অভিযোগ।
এ বিষয়ে উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘যে বিভাগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেই বিভাগেরই কার্ড এসেছে। শিক্ষার্থী যদি কমার্সে ভর্তি হয়ে মানবিকে পড়াশোনা করে, তার দায় আমার নয়। কাল বোর্ডে যাব, দেখা যাক কী হয়। তবে তিনি ওই শিক্ষার্থীর রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি।
অন্যদিকে, জোতমোড়া নিম্ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মেয়েটি শুরুতে কমার্সে ক্লাস করেছে এবং রেজিস্ট্রেশনে স্বাক্ষরও করেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও বোর্ডে কথা বলা হচ্ছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিকেল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে কিছুই জানাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তার পরিবার জানিয়েছে, বাবা-মা হারানো এতিম এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র না পেলে কালকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।