নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির কফিনে মিলল অতিরিক্ত একটি পা
- আপডেট সময় : ১১:০৪:১০ এএম, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৯ শেয়ার হয়েছে
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ট্রাক উল্টে নিহত নাটোরের সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি অতিরিক্ত পা। নিহতের নিজের দুই পায়ের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত পাটি কার, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
নিহত সেন্টুর পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশের কাছ থেকে তা বুঝে নেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে এনে দাফনের আগে গোসল করানোর সময় তারা লক্ষ্য করেন, মরদেহের সঙ্গে দুটির পরিবর্তে তিনটি পা রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে তারা জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রায়হানের একটি বিচ্ছিন্ন পা ভুলবশত সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে চলে আসতে পারে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আহত রায়হানের স্বজনরা নাটোরে এসে অতিরিক্ত পাটি পরীক্ষা করে দেখেন। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পাটি রায়হানের নয়। রায়হান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খুঁটিপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। ওই দুর্ঘটনায় তার এক হাতের কব্জি ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রায়হানের ভাতিজা অনিক জানান, রায়হানের দুই পা কোমরের নিচ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। একটি পা নাটোরে আছে-এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। কিন্তু সেখানে থাকা তিনটি পায়ের একটিও আমাদের রোগীর নয়। রায়হানের জন্মগতভাবে পায়ের আঙুলের মাঝে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ফাঁকা ছিল, অথচ উদ্ধারকৃত পাটির কোনোটিতেই সেই বৈশিষ্ট্য নেই।
নিহত সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাদের জানিয়েছিল অতিরিক্ত পাটি আহত রায়হানের। কিন্তু তার স্বজনরা এসে তা অস্বীকার করছেন। এখন এই অতিরিক্ত পা নিয়ে আমরা কী করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সরোয়ার হোসাইন বলেন, দুর্ঘটনার সময় একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ছিলেন যার দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো তখন সবচেয়ে জরুরি ছিল। ঘটনাস্থলে তীব্র দুর্গন্ধ থাকায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ার সময় অসাবধানতাবশত কোনো মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পাটি চলে যেতে পারে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার বর্তমানে গভীর শোকে রয়েছে। আপাতত নিহত সেন্টুর পরিবারকে অতিরিক্ত
অসাবধানতাবশত কোনো মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পাটি চলে যেতে পারে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার বর্তমানে গভীর শোকে রয়েছে। আপাতত নিহত সেন্টুর পরিবারকে অতিরিক্ত পাটি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন; যদি এটি তাদের কারও হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পরিবার পরে এসে তা শনাক্ত করে নিয়ে যেতে পারবে।





















