মধ্যরাতেই কি ইরানে পারমাণবিক বোমা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্র?
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:১৩ পিএম, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ শেয়ার হয়েছে
ইরান-আমেরিকার সংঘাত এখন টানটান পরিস্থিতি পার করছে। কখন কী ঘটবে বলা মুশকিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আজ রাতেই ইরানে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। তার ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই হামলার পর ইরানের চিহ্ন পৃথিবী থেকে মুছে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির পর প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি আজ রাতেই ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র?
এই প্রেক্ষাপট আরও জোরালো হয়েছে, কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে। ইরানি গণমাধ্যম জানাচ্ছে, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরান তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব চুক্তি ও সম্ভাব্য আলোচনা স্থগিত করেছে।
এদিকে শান্তি আলোচনার জন্য এর আগে গত শুক্রবার তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতায় ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময়সীমা আজ রাতেই শেষ হবে বলে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প সেখানে লিখেছেন, ইরান একটি ‘বড় ধরনের বিপ্লবী রূপান্তর’ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং তিনি আগামী কয়েক ঘণ্টাকে দেশটির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আজ একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আর কখনো ফিরে আসবে না… আমি চাই না এমনটা ঘটুক।’
তিনি আরও বলেন, আজ রাতটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে। ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ৪৭ বছরের শাসনের আজ অবসান ঘটতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এর আগে এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকার হামলায় ইরান পুনর্গঠনে ‘১০০ বছর সময় লাগতে পারে’।
বিশ্লেষকরা বলছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যই সত্যিই আজ রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, আজ ইরানের জন্য বড় একটি দুঃসংবাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্রের অবস্থান। সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ট্রাম্পকে এই যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করতে বলেছে।
চলমান এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই পথটি এখন উভয় রাষ্ট্রের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কারণ এই পথ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আর এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ওপর ইরান টোল ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে। সূত্র বলছে, প্রতি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ডলার ট্রানজিট ফি আরোপের প্রস্তাব ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।























