ঢাকা ০৬:০২ এএম, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪১ এএম, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৪৫ শেয়ার হয়েছে
সংবাদ কথা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই খবর প্রচার করে।

 

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।’ তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস।

 

আইআরআইবির খবরে আরও বলা হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন।

 

এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা একজন “অনন্য ও ঐতিহাসিক নেতাকে” হারিয়েছে। বিবৃতিতে খামেনিকে ঈমান, আত্মত্যাগ, সাহস ও আল্লাহর পথে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

তেহরানভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইরনাও আলাদা প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। পরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে চালানো হামলাতেই তার মৃত্যু হয়।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনও ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ইরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘোষণাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪১ এএম, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই খবর প্রচার করে।

 

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।’ তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস।

 

আইআরআইবির খবরে আরও বলা হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন।

 

এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা একজন “অনন্য ও ঐতিহাসিক নেতাকে” হারিয়েছে। বিবৃতিতে খামেনিকে ঈমান, আত্মত্যাগ, সাহস ও আল্লাহর পথে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

তেহরানভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইরনাও আলাদা প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। পরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে চালানো হামলাতেই তার মৃত্যু হয়।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনও ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ইরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘোষণাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ বাড়ছে।