ঢাকা ০৫:৫৮ এএম, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাই থেকে সম্পদ সরাচ্ছে ধনী ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৭ এএম, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৪৪ শেয়ার হয়েছে
সংবাদ কথা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রথম ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুজন ভারতীয় উদ্যোক্তা, যারা সেখানে বসবাস করেন, তাদের স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি করে অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করার চেষ্টা করেন। যাতে ঝুঁকি কমানো যায়।

 

তবে হামলার পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রাথমিকভাবে সেই লেনদেন ব্যাহত হয়। উদ্যোক্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

 

তাদের একজন পরে জানান, তিনি আরব আমিরাতের অন্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থটি তার সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

শতাধিক অন্যান্য এশিয়ার ধনী ব্যক্তি একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা খোঁজখবর করছেন যাতে দুবাইয়ে রাখা সম্পদ তারা আঞ্চলিক আর্থিক কেন্দ্র সিঙ্গাপুর বা হংকয়ে সরিয়ে নিতে পারেন। মনটাই জানিয়েছেন শিল্প পরামর্শদাতা ও আইনজীবীরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে।

 

ধনী ব্যক্তিরা সাধারণত বিভিন্ন অঞ্চল ও সম্পদে বিনিয়োগ ছড়িয়ে রাখেন, তবে কর, নিয়ন্ত্রণ, গোপনীয়তা ও কার্যক্রমগত সুবিধার কারণে কোথায় অবস্থান করবেন তা ঠিক করেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাই এশিয়ার, বিশেষ করে চীনের, উদ্যোক্তা ও ধনী পরিবারগুলোর জন্য একটি পছন্দের সম্পদ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সেখানে অনুকূল নীতি এবং সম্পত্তি ও অবকাঠামো খাতে বুম ছিল।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের মোট সম্পদ ৫.৪২ ট্রিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ১.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।

 

তবে এখন এই প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দুবাই ও আবুধাবিতে হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনজীবী রায়ান লিন বলেন, তার ২০ জন দুবাইভিত্তিক ক্লায়েন্টের মধ্যে ছয়–সাতজন এই সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যাদের গড় সম্পদের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন ডলার, তাদের মধ্যে তিনজন অবিলম্বে সম্পদ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন।

 

একজন ক্লায়েন্ট “দ্রুত কীভাবে সবকিছু সিঙ্গাপুরে পাঠানো যায় তা খতিয়ে দেখছেন”—বলেন লিন।

 

আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ও ফান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডারসন গ্লোবালের প্রধান আইরিস জু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পদ ফিরিয়ে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে এই সপ্তাহে ১০–২০টি পারিবারিক অফিস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

 

পারিবারিক অফিস হলো ধনী পরিবারের বিনিয়োগ পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান।

 

“আগে দুবাই মূলত কর সুবিধার জন্য আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু এখন সেই সুবিধা তাদের অগ্রাধিকার নাও হতে পারে,” বলেন তিনি।

 

সিঙ্গাপুরের এক সম্পদ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা, যিনি মিডিয়ায় কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করতে চাননি, তিনি জানান, তিনি ইতোমধ্যে আরব আমিরাত ভিত্তিক ১৩ জন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের অর্ধেকের বেশি সিঙ্গাপুরে সম্পদ সরাতে আগ্রহী।

 

“সংঘাত কালই শেষ হয়ে গেলেও বারবার যাতায়াত করা কঠিন হবে। এটি আস্থার বিষয়,” বলেন ওই উপদেষ্টা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুবাই থেকে সম্পদ সরাচ্ছে ধনী ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৭ এএম, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রথম ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুজন ভারতীয় উদ্যোক্তা, যারা সেখানে বসবাস করেন, তাদের স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি করে অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করার চেষ্টা করেন। যাতে ঝুঁকি কমানো যায়।

 

তবে হামলার পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রাথমিকভাবে সেই লেনদেন ব্যাহত হয়। উদ্যোক্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

 

তাদের একজন পরে জানান, তিনি আরব আমিরাতের অন্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থটি তার সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

শতাধিক অন্যান্য এশিয়ার ধনী ব্যক্তি একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা খোঁজখবর করছেন যাতে দুবাইয়ে রাখা সম্পদ তারা আঞ্চলিক আর্থিক কেন্দ্র সিঙ্গাপুর বা হংকয়ে সরিয়ে নিতে পারেন। মনটাই জানিয়েছেন শিল্প পরামর্শদাতা ও আইনজীবীরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে।

 

ধনী ব্যক্তিরা সাধারণত বিভিন্ন অঞ্চল ও সম্পদে বিনিয়োগ ছড়িয়ে রাখেন, তবে কর, নিয়ন্ত্রণ, গোপনীয়তা ও কার্যক্রমগত সুবিধার কারণে কোথায় অবস্থান করবেন তা ঠিক করেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাই এশিয়ার, বিশেষ করে চীনের, উদ্যোক্তা ও ধনী পরিবারগুলোর জন্য একটি পছন্দের সম্পদ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সেখানে অনুকূল নীতি এবং সম্পত্তি ও অবকাঠামো খাতে বুম ছিল।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের মোট সম্পদ ৫.৪২ ট্রিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ১.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।

 

তবে এখন এই প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দুবাই ও আবুধাবিতে হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনজীবী রায়ান লিন বলেন, তার ২০ জন দুবাইভিত্তিক ক্লায়েন্টের মধ্যে ছয়–সাতজন এই সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যাদের গড় সম্পদের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন ডলার, তাদের মধ্যে তিনজন অবিলম্বে সম্পদ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন।

 

একজন ক্লায়েন্ট “দ্রুত কীভাবে সবকিছু সিঙ্গাপুরে পাঠানো যায় তা খতিয়ে দেখছেন”—বলেন লিন।

 

আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ও ফান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডারসন গ্লোবালের প্রধান আইরিস জু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পদ ফিরিয়ে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে এই সপ্তাহে ১০–২০টি পারিবারিক অফিস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

 

পারিবারিক অফিস হলো ধনী পরিবারের বিনিয়োগ পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান।

 

“আগে দুবাই মূলত কর সুবিধার জন্য আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু এখন সেই সুবিধা তাদের অগ্রাধিকার নাও হতে পারে,” বলেন তিনি।

 

সিঙ্গাপুরের এক সম্পদ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা, যিনি মিডিয়ায় কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করতে চাননি, তিনি জানান, তিনি ইতোমধ্যে আরব আমিরাত ভিত্তিক ১৩ জন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের অর্ধেকের বেশি সিঙ্গাপুরে সম্পদ সরাতে আগ্রহী।

 

“সংঘাত কালই শেষ হয়ে গেলেও বারবার যাতায়াত করা কঠিন হবে। এটি আস্থার বিষয়,” বলেন ওই উপদেষ্টা।