নিজস্ব প্রতিবেদন - সংবাদ কথা
যুক্তরাষ্ট্র কাউকে রক্ষা করে না, সবাইকে ইসরায়েলের জন্য কোরবানি দেয়: ইরান
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩৩ পিএম, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৫০ শেয়ার হয়েছে
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নয়, বরং নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমাদের অঞ্চলে থাকা আমেরিকান ঘাঁটিগুলো কাউকে সুরক্ষা দেয় না; বরং এগুলো হুমকির কারণ। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইসরায়েল–এর স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং অন্য দেশের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয় না।
তিনি আরও বলেন, যারা আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বা তাদের আশ্রয়ে থাকে, তারা আসলে নিরাপদ নয় বরং অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, প্রথম দফার হামলাতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে নিহত হন কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারও।
এর জবাবে ইরান বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে বলে জানা গেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের Terminal High Altitude Area Defense (THAAD) ব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সরিয়ে ইসরায়েল–এ স্থানান্তর করেছে। এর ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই কিম জং উন–এর নির্দেশে উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। শুক্রবার রাজধানী পিয়ংইয়ং–এর কাছাকাছি এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে জাপান–এর কোস্টগার্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া–এর প্রতিরক্ষা বাহিনী।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তার ভাষায়, দেশের জনগণের সহযোগিতায় এই সংকট কাটিয়ে উঠবে ইরান এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আগের চেয়েও ভালোভাবে পুনর্গঠন করা হবে।























