প্রিয় অগ্রজ ফকির মুহব্বত শাহ্ চলে গেলেন একবুক অভিমান নিয়ে
- আপডেট সময় : ১২:২১:৫১ পিএম, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ শেয়ার হয়েছে
প্রিয় অগ্রজ ফকির মুহব্বত শাহ্
চলে গেলেন একবুক অভিমান নিয়ে
মাইন সরকার
লোক গবেষক ফকির মুহব্বত শাহ্ কবি, কথক, লেখক, শিক্ষক, সংগঠক, গীতিকার, নাট্যকার, বংশীবাদক ও পরিব্রাজক মানুষ। বাংলাদেশের লোক সাহিত্য – সংস্কৃতি, লোককথা, কিচ্ছা — কাহিনি, রুপক, লোক সংগীত সংগ্রাহক, পাঁচ শতাধিক মৌলিক গানের রচিয়তা। প্রকাশিত গ্রন্থ : মহেন্দ্র লোককথা, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, বাংলা একাডেমী ২০১৪। চার যুগ নিভৃতে সাহিত্য সাধনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রবহনকারী তরুণ। এক সময়ে প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্রগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের গ্রামগুলিতে লোক সাহিত্য ও সংস্কৃতির খোঁজে কুঁড়েঘর, টং, বেদেবহর, খড়ের গাদা, মেঠোপথ, হাট- ঘাট- বাট, বন বাদাড়, নদী, পাহাড় সমতলে চষে বেড়িয়েছেন। কবি ও সম্পাদক চাঁদ আক্তার
ফকির মহব্বত শাহ্ এর সুখতারার গ্রহণ উপন্যাসের ভূমিকায় লিখেছেন– ফকির মুহব্বত শাহ্ র উপন্যাস ” সুখতারার গ্রহণ ” রোমান্টিক ভালোবাসার কাহিনি। প্রেম এখানে তীব্র, নিয়ন্ত্রনহীন, দেহজ।
মরিয়মের পুত্র কামনা ও শুখতারার নিচে মাঝির নৌকায় সন্তানের জন্ম। ভাবা হয় শুখতারার প্রভাবে নায়ক রুস্তুমের জীবন তীব্র, অদম্য, অস্থির বেগবান ও কর্মফল জটিল রঙ্গমঞ্চে স্রোতধারা হয়ে গড়িয়ে চলে। নায়কের উদ্দাম প্রেম, কাম, লোভ, ধ্বংস, পতন ডেকে আনে। বারবার প্রেমের কাছে কামের কাছে ভাগ্যচক্রে হেরে হেরে শেষে সংসার ত্যাগ করে নিজেই ধ্রুব তারা হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম জীবন, চরদখল অসমপ্রেম, ডাকাতি, পরকিয়া বর্ণনায় ভাষা বর্ণিল অপরুপ হয়ে উঠে। লোকজ দর্শন, সংস্কৃতি সংস্কার, বিশ্বাস, জ্যোতিষ রাশিচক্র, যাদু, টোনা, মাঝার, নিয়তিবাদ প্রকাশে অভিনব বাস্তবতায় অলংকৃত হয়েছে।
লেখক লোক গবেষণা থেকে লোকবাস্তবতায়,
যাদুবাস্তবতার এক সচেতন প্রয়াস ঘটিয়েছেন। আঞ্চলিক ও প্রান্তিক শব্দ নিয়ে লেখেছেন।
দেশজ প্রকাশ, প্রবাদ, প্রবচন, প্রথা ও ব্যয়াকরণ
বদলে দিতে চান। লেখক কলোনিয়াল মানসিকতা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে নিখুঁত দেশজ প্রেম উপন্যাসে রচনা করেছেন। মহাকাল তার শ্রমের উপযুক্ত মূল্য দেবে।





















